তৃতীয় লিঙ্গের ৪০ জনকে আবাসনের ঘরে ওঠানোই বিরাট চ্যালেঞ্জ

স্টাফ রিপোর্টার:শেরপুর সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের তৃতীয় লিঙ্গের জনগণের জন্য আবাসন প্রকল্পের নির্মিত ঘরে তাদেরকে ওঠানোই বিরাট চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেছেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক মোমিনুর রশিদ। জেলা প্রশাসক ১৩ জুলাই ওই আবাসন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। এসময় শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফিরোজ আল মামুন ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক চান উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনশেষে জেলা প্রশাসক মোমিনুর রশিদ বলেন, জায়গাটি অত্যন্ত মনোরম পরিবেশে অবস্থিত। এখানে পুকুর পাড়ে পেলাসাইডিং কাজের ব্যবস্থা অত্যন্ত সুন্দর। পিলারগুলি অত্যন্ত মজবুত করে গড়া হয়েছে। মাছ চাষের জন্য বিনামূল্যে পুকুর ও দীঘির ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও যাদের জন্য এ আয়োজন তাদেরকে আনানোই এখন বিরাট চ্যালেঞ্জ।

অথচ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জনউদ্যােগ প্রথমে শেরপুর জেলার ৫২ জন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে মুলধারায় আনার জন্য নানা কাজ শুরু করেন। এক পর্যায়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন এবং সাংবাদিকগণসহ সচেতন মহল তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন। এসময় ৩য় লিঙ্গের সবারই দাবী ছিলো তাদের একটি আবাসনের ব্যবস্থা করার। এ প্রেক্ষিতেই শেরপুর সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নে ৪০ জন ৩য় লিঙ্গের মানুষের জন্য প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এ আবাসনের ব্যবস্থা করে দেন জেলা প্রশাসন। প্রত্যেককে একটি করে ঘর ও ২শতাংশ করে জমি প্রদান করা হয়। একই সাথে মাছ চাষ করাসহ নানা কাজের জন্য দেয়া হয় একটি পুকুর ও আবাদী জমিও। প্রায় এক মাস আগে ওই ৪০ জনকে ঘর এবং জমি বুঝিয়ে দেয়া হয়। তাদের হাতে তুলে দেয়া হয় ঘরের চাবি। সংযোগ দেয়া হয় বিদ্যুতও। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউই ঘরে ওঠেনি। ফলে হতাশ অনেকেই।

এ ব্যাপারে হিজরা কল্যান সমিতির সভাপতি নিশি সরকার জানায়, আমরা ঈদের পর সেখানে ওঠবো।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জনউদ্যােগের সভাপতি আবুল কালাম জানান, আমরা চেষ্টা করছি হিজরাদের তাদের ঘরে তুলে দেয়ার জন্য। আশা করি আমরা সফল হবো।

জনউদ্যােগের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক হাকিম বাবুল জানান, আমরা চেষ্টা করছি তাদেরকে সেখানে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আশা করছি ঈদের পরে তারা আবাসনে উঠবে।

Top
ঘোষনাঃ