ঝিনাইগাতীর আছিয়ার লকডাউনে পানি বিক্রিও বন্ধ॥ ফলে দুর্বিষহ দিন কাটছে

স্টাফ রিপোর্টার:
‘কারো কাছে হাত পাতি নাই কোনো দিন। নিজের কষ্টে কামাই কইরে খাই। হোটেলে হোটেলে পানি বেচি। সেই ট্যাকা দিয়াই সংসার চালাই। লকডাউনে হোটেল বন্ধ, পানি না বেচতে পারলে চুলায় রান্না হয় না। দিনে একবেলা খাইয়াই কাটাই।’
কথাগুলো এভাবেই বলছিলেন শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার বন্দভাটপাড়া গ্রামের আছিয়া বেগম। স্বামীর মৃত্যুর পর চার সদস্যের পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম আছিয়া সদর উপজেলার বাজারের হোটেলে হোটেলে পানি বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন।
আছিয়া বেগমের একটি ভ্যান রয়েছে। সেই ভ্যানে করেই ড্রামভর্তি পানি নিয়ে বিভিন্ন চা স্টল ও হোটেলে সরবরাহ করে দিনে ২০০-৩০০ টাকা আয় করেন তিনি।
বাজারে হেঁটে হেঁটে ভ্যান চালিয়ে দোকানে দোকানে পানি বিক্রি করেন আছিয়া বেগম। চলমান লকডাউনে চা স্টল বন্ধ। সেজন্য এসব দোকানে পানি সরবরাহও বন্ধ রয়েছে। ফলে দুর্বিষহ দিন কাটছে আছিয়ার।

হোটেল মালিক মিল্লাত মিয়া বলেন, ‘আছিয়া বেগম নিজে ভ্যানে করে ড্রাম ভরে বাজারের চা স্টলগুলাতে পানি সাপ্লাই দেয়। প্রতি কলস পানি ৪-৫ টাকা করে বিক্রি করে। এখন তো সব চা স্টল বন্ধ। তাই তার দিন চালানো খুব কঠিন হয়ে পড়ছে। ওরে সরকারিভাবে সহযোগিতা করা দরকার।’

অনলাইন প্ল্যাটফর্ম শেরপুর ৩৬০ ডিগ্রির অ্যাডমিন মেহেদী হাসান সাব্বির বলেন, ‘এই সমাজে শত শত পুরুষের মাঝে আছিয়া বেগম একাই সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। নিজে ভ্যানে করে বাজারে পানি বিক্রি করা এই সংগ্রামী নারী সমাজের জন্য একটি বার্তা বহন করে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তার জন্য বিধবা ভাতা ও বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করা দরকার।’

ভয়েস অব ঝিনাইগাতীর মুখপাত্র ও মানবাধিকারকর্মী জাহিদুল হক মনির বলেন, ‘স্বামীর মৃত্যুর পর সংসার চালাতে আছিয়া বেগমের এই প্রচেষ্টা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। তার এই দুঃসময়ে তার জন্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারুক আল মাসুদ বলেন, আমি দ্রুততম সময়ের মধ্যে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে আর্থিক সহযোগিতা করব। লকডাউন পরবর্তী সময়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তার বিধবা ভাতা কার্ডের ব্যবস্থা করে দেয়া হবে বলেনও জানান ইউএনও।

Top
ঘোষনাঃ