জামালপুরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে অনলাইনে হোমমেড খাবারের ব্যবসা


করোনার কারণে যখন হোটেল-রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় প্রচণ্ড মন্দা চলছে, তখন জামালপুরে নারীদের মধ্যে অনলাইনে ঘরে তৈরি খাবারের ব্যবসা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

খাবারের গুণগত মান বজায় রেখে কম দামে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে গ্রাহকের ঘরে ঘরে পৌছে যাচ্ছে চাহিদা মতো খাবার। জেলায় অন্তত ২০টি হোমমেড খাবারের অনলাইন পেজ পরিচালনা করছেন নারীরা। যাদের বেশির ভাগই শিক্ষার্থী।

গেল বছর করোনার কারণে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় জামালপুরে নিজের বাড়িতে অবস্থান করছেন ইডেন কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া বিনতে কবির।

এক বছর আগে ই-কমার্স ভিত্তিক একটি অনলাইন পেজ ‘রসনাবিলাস’ নামে হোমমেড খাবারের ব্যবসা চালু করেন সুমাইয়া। শুরুর দিকে পরিচিতরা খাবারের অর্ডার দিলেও বর্তমানে তার ব্যবসা জামালপুর ছাড়িয়ে অন্যান্য জেলায়ও ছড়িয়ে পড়েছে। গেল এক বছরে তার আয় হয়েছে দেড় লাখ টাকা। হোমমেড ব্যবসাকেই আরো বড় পরিসরে চালানোর ইচ্ছা তার। সুমাইয়া বিনতে কবির বলেন,’হোমমেড খাবারের ওপর যদি আমরা নির্ভর করি তবে আমরা ফ্রেশ খাবার পাচ্ছি। পঁচাবাসি খাবারের কোন ঝামেলা নাই। আর বাইরেও যেতে হচ্ছে না। চেষ্টা করবো এখন থেকে যেন আরও ১০টা নারীর কর্মসংস্থান করতে পারি।’

এ রকম আরো অনেক নারীই অনলাইন ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন। জেলায় অন্তত ২০টি হোমমেড খাবারের অনলাইন পেজ পরিচালনা করছেন তারা। স্থানীয় গ্রাহকের পাশাপাশি বিভিন্ন কোম্পানি এবং এনজিওতে খাবার সরবরাহ করছেন তারা। তানজিদা ইয়াসমিন মিলি বলেন,’আমরা এই ব্যবসাটাকে আমি বড় পরিসরে করতে চাচ্ছি।’

গ্রাহকরা বলছেন, পছন্দের খাবারগুলো তাদের নিজস্ব ডেলিভারি বয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাসায় পৌঁছে দেয়ায় যেমন করোনার ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকা যাচ্ছে, তেমনি ঘরে বসেই রেস্টুরেন্টের খাবারের স্বাদ নিতে পারছেন।

নারী উন্নয়ন কর্মীরা বলছেন, করোনার এই সময়ে জেলার মেয়েরা পড়াশুনার পাশাপাশি রন্ধন শিল্পটাকে কাজে লাগিয়ে নিজেরা উদ্যোক্তা হয়েছে। তারা যদি সহযোগিতা পায় সামনে আরো এগিয়ে যেতে পারবে।

জামালপুর তরঙ্গ মহিলা সংস্থা নারী উন্নয়ন কর্মী ও নির্বাহী পরিচালক শামীমা খান বলেন,’হোমমেড খাবারের যে সাপ্লাইটা তারা দিচ্ছে তা সত্যই অভূতপূর্ব। ২৫ জন মেয়ে সুন্দরভাবে উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।’

Top
ঘোষনাঃ